ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন এডিসি ও এক ইউএনওসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা


আপডেট সময় : ২০২৫-১২-২৩ ২০:১৬:২৬
তিন এডিসি ও এক ইউএনওসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা তিন এডিসি ও এক ইউএনওসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
নাদিম আহমেদ অনিক, নিজস্ব প্রতিনিধি:
 
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রকল্পের ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জান্নাত আরা তিথি ও রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টুকটুক তালুকদার এবং নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াতসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
 
গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) নওগাঁ সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন ওই কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক আল মামুন। সোমবার সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
এডিসি টুকটুক তালুকদার, জান্নাত আরা তিথি, আবুল হায়াত, ও ইউএনও শামিমা আক্তার। তারা প্রত্যেকে সাবেক কালাই উপজেলার নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন ও আইভিএ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন।
 
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন- আয়েশা আক্তার (৪৬), গাউসুল আজম (৬৩), মোখছেদ আলী (৫২), মনোয়ারুল হাসান (৫৭), হাসান আলী (৪০), নীলিমা জাহান (৪২), আনোয়ার আলী (৫৮), অরুণ চন্দ্র রায় (৩৭), তৌহিদা মোহতামিম (২৮)। তারাও সবাই ওই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। 
 
 
মামলা সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট কালাই উপজেলার ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্রে ২ হাজার ৯৮ জন শিক্ষার্থীর যাবতীয় খরচাদির জন্য ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনাটি ঘটে। 
 
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮-১৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া ও বিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই না করে, প্রকৃত ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী না নিয়ে ১ হাজার ৬৫৭ জন ভুয়া ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখানো হয়। তাদের নিয়ে ৫৫টি ভুয়া উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা দেখানো হয়। ভুয়া শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করার হয়েছে।
 
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ৫৫ টি শিক্ষণকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ প্রত্যেক শিক্ষকের বেতন ৫ হাজার টাকা হারে বার্ষিক ৩৩ লাখ টাকা, অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচাদি প্রতিটির জন্য ২২ হাজার ৬৯০ টাকা হারে মোট ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষক ও অন্যান্যদের ট্রেনিংয়ের খরচাদি প্রতিটির জন্য ৬২ হাজার ৩৯২ টাকা হারে মোট ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৬০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পোশাকের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকা হারে মোট ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং স্কুল ব্যাগের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা হারে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ব্যবস্থাপনা খরচাদি ও অন্যান্য খরচসহ ওই প্রকল্পের মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জান্নাত আরা তিথির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চায়নি।
 
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টুকটুক তালুকদার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নয়। আর্থিকভাবে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা শুধু মনিটরিং টিমে ছিলাম। 
 
এ বিষয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ